‘আরে খোকার সাথে মাটি দিয়েন’ গলায় ফাঁস দিয়ে স্বামীর আতœহত্যার পর স্ত্রীও করলো আতœহত্যা-লিখে রেখে গেলো একটি চিরকূট   | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | সময়ঃ ১:৪৮ অপরাহ্ণ

খোকা মিয়া একজন গার্মেন্ট কর্মী। মাত্র ২২ বছরের তাগড়া যুবক। অজানা কারণে গলায় ফাঁস দেয় এই খোকা। দু:খজনক এই ঘটনার একদিনও পার হয়নি। একই পথ বেছে নিলো তার স্ত্রী ঋতু আক্তার (২০)! কী এর রহস্য? শুধুই কি উভয়ের মধ্যেকার প্রেম-ভালোবাসা, নাকি কোনো অজানা বিষয়! এসব কথা ধূমায়িত হচ্ছে শহরময়। এই লাগাতার আত্মহত্যার ঘটনাগুলো ঘটলো জেলা শহরের কান্দিপাড়া মহল্লায়।
গতকাল বুধবার সকালে স্বামী  খোকা মিয়ার মামা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকার বাহার মিয়ার বাড়ির স্টোর রুমে থেকে ঋতুর ফাঁসিতে ঝুলানো মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। এর একদিন আগে গত সোমবার বিকেলে গার্মেন্ট কর্মী খোকাও  ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। নিহত ঋতু রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা রানা মিয়ার মেয়ে। আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া স্বামী-স্ত্রী দুজনই রাজধানীর উত্তরায় একই গার্মেন্টে শ্রমিকের কাজ করতেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে খোকার মরদেহ তার নানার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে কান্দিপাড়া এলাকায় দাফন করা হয়। সেদিনই দিবাগত মধ্যরাতে ঋতু তার স্বামীর মামা বাহার মিয়ার বাড়ির স্টোররুমে সিলিংয়ের সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরেই ঋতু আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। মারা যাবার আগে ঋতু-নিজের আই ভ্রু পেনসিল দিয়ে লিখে যায়-‘আরে (আমাকে) খোকার সাথে মাটি দিবেন। আমি খোকারে ছাড়া থাকতে পরমোনা, বিদায়।’
মরদেহ উদ্ধারকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, ‘ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে সাদা শাড়ি প্যাঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগায় ওই গৃহবধূ। তার মরদেহের পাশে একটি চিরকূট পাওয়া গেছে। নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

এখানে আপনার মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পড়া হয়েছে 45 বার

এই বিভাগের আরও খবর

    আর্কাইভ

    প্রজাবন্ধু ফেসবুক ফ্যান পেজ