জান্নাতুল ফেরদৌস প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া   | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | সময়ঃ ৮:২৩ অপরাহ্ণ
200

বাংলাদেশের জনগণকে দীর্ঘকাল ধরে উপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়েছে। বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৮৭১ সাল পর্যন্ত সময়কাল এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭১ সালে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভিযাত্রা শুরু হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেত”ত্বে। শোষণ, নিপীড়ন ও বঞ্চনার মধ্য দিয়েই কোনোভাবে পরাধীনতার শ”ড়খলে আমাদের পূর্ব প্রজন্ম বেঁচে ছিলেন। অন্যান্য  সেক্টরের মতো খুবই নড়বড়ে অব¯’ায় এদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যব¯’া চালু ছিল। সরকারি প”ষ্ঠপোষকতা দূরের কথা, না ছিল কোনো ব্যব¯’াপনা। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ”ন্ট দ্বারা প্রণীত একুশ দফায় প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক প্রতিশ্রুতি ছিল দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রভেদ দূর করে একই পর্যায়ভূক্ত করে সকল স্কুলকে সরকারি সাহায্যপুষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা ও শিক্ষকগণের জন্য উপযুক্ত বেতন ও ভাতার ব্যব¯’া করা।
এসব দাবি-দাওয়ার মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা রয়ে যায়। তদানীন্তন সময়ের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যব¯’া স্ম”তিচারণ করলে শিরা-উপশিরায় ও ধমনীতে রক্তক্ষরণ হয়। সুব্যব¯’া ও সরকারি প”ষ্ঠপোষকতা থাকলে আমরাও উন্নত জাতিতে পরিণত হতাম। পিছিয়ে আছি এক শতাব্দী। অথচ এই সুজলা, সুফলার দেশ লুট করেই আজ তারা উন্নততর।
স্বাধীনতা- উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু কর্ত”ক বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি ও কর্মরত সকল শিক্ষককে সরকারি কর্মচারী হিসেবে যোঘণার এদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যব¯’া মাথা উচু করে ঘুরে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ এগিয়ে যা”েছ, এগিয়ে যা”েছ প্রাথমিক শিক্ষা। ৪র্থ পরিকল্পনাকালে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। এ কার্যক্রমকে জোরদার করতে ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা’ বিভাগ নামে একটি মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
গরিব শিক্ষার্থীদের উপব”ত্তি প্রদান, শতকরা ৬০ ভাগ মহিলা শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক পদস”ষ্টি, প্রতি বিদ্যালয়ে ‘দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী’ নিয়োগ, মাল্টিমিডিয়া কাস চালু। শিক্ষকগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান, বিদ্যালয়ে পরিবেশকে উন্নত, বহুতল ভবন নির্মাণ, ¯’ানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, এস.এস.সি/ পি.টি.এ সচল, স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন, ক্ষুদে ডাক্তার টিম গঠন, ক্রীড়া ও স্বাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রবর্তন, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পুরস্কারের ব্যব¯’াসহ নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে আজ আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছি।
সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল একধাপ উন্নীত করণের ঘোষণা দিয়েছেন বিগত ৯ মার্চ। শিক্ষিত জাতি গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে “প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা” ব্যব¯’া চালু করে সফলভাবে এগিয়ে যা”েছ। বর্তমানে শতভাগ ভর্তি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, শতভাগ পাশের লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী অভিভাবকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ নিজেদের নিয়োজিত করছেন। বর্তমানে ‘শিখবে প্রতিটি শিশু’ (ঊধপয ঈযরষফ খবধৎহ) নামে একটি ‘পাইলটিং প্রকল্প’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাজীপুর জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু আছে। পাইলটিং এর সাফল্য প্রায় শতভাগ। আশা করা যায় আগামীতে দেশব্যাপী একযোগে চালু হবে এবং কোনো শিশুই পাঠ্য শিক্ষা থেকে বাদ পড়বে না, ঝরে যাবে না, অকৃতকার্য হবে না বলে উন্নত জীবন গঠনের আশায় উ”চ শিক্ষা গ্রহণে ব্রতী হয়ে দেশ সেবায় আজকের প্রতিটি শিশু অবদান রাখার সুযোগ পাবে নিঃসন্দেহে। কেবল সরকারের সদি”ছা থাকলেই হবে না দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে নিজ নিজ অব¯’ান থেকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা’ পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলাদা একটি বোর্ড গঠন করা এখন সময়ের দাবি।
সারাদেশব্যাপী ‘মিড-ডে মিল’ এর ব্যব¯’া চালুর মাধ্যমে বিরতির পর শিক্ষার্থী বাড়ি গমনের প্রবণতা শূণ্যে নেমে আসবে। নিশ্চিতভাবে শিশুর প্রাথমিক স্তর সমাপ্তিকরণে বিদ্যালয়কে সার্বিক সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। উন্নত স্বপ্নদর্শনে আজকের শিশু বিশ্বনাগরিক হয়ে আগামী প”থিবীকে সুন্দর করে গড়ে তুলবে।
নিপোলিয়ান বলেছিলেন, ‘আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি শিক্ষিত জাতি দিব।’ আজকের প্রত্যেকটি শিশুর উ”চারণ- আমাকে গড়ে ওঠার পরিবেশ দাও, আমি দেশকে গড়ব, বিশ্বটাকে বদলে দিব। সকল শিশু বিকশিত হবে বাধাহীনভাবে এই অঙ্গীকার আমাদের সকলের।
লেখকঃ- জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

এখানে আপনার মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পড়া হয়েছে 11 বার

এই বিভাগের আরও খবর

    আর্কাইভ

    প্রজাবন্ধু ফেসবুক ফ্যান পেজ