॥ এইচ.এম. সিরাজ ॥ বিদায় সৈয়দ হক   | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | সময়ঃ ১:৪০ অপরাহ্ণ
100

‘অনেক সাধের ময়না আমার বাধন কেটে যায়
মিছে তারে শিকল দিলাম রাঙা দুটি পায়।’
এই অমর গানটাই সত্যি হলো। মিছেই তো রাখছিলেন শিকল পড়িয়ে! কিন্তু বেঁধে কি তাকে রাখা গেল? ময়না বাধন কেটেই গেল। যাবার বেলায় যেন বলে গেল, ‘বিদায় সৈয়দ হক।’ তিনি বাংলার সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।
মাত্র দুদিন আগে প্রথম আলোতে তাঁকে নিয়ে আনিসুল হকের লেখাটা বার কয়েক পড়ি। অতৃপ্ততায় রাত আড়াইটায় ফের পড়ি তন্ময়তায়। আর আজ! জীবন-মৃত্যুর দুর্ভেদ্যরেখাটাকে মুছে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক লভিলেন অমরত্ব।
ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সৈয়দ হক রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ছিলেন চিকিৎসাধীন। ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করলেন তাঁর মৃত্যু। মানবশরীরে আশি বছরেরও বেশিকাল মর্ত্যবাসী সৈয়দ হক এখন হলেন মহাবিশ্বের আদ্যান্তহীনতায় সমর্পিত।
অবিনাশী তাঁর সৃষ্টি, সত্তা, চিরসক্রিয় থাকবে বাঙালির মন আর মননজুড়ে। সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে বিচরণকারী সৈয়দ হক এই নশ্বর চরাচরে বেঁচেছিলেন ৮১ বছর। স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক, এক ছেলে-এক মেয়েকে রেখে গেছেন আমাদের মাঝে।
সেই ১৯৫৩ সালে। ‘একদা এক রাজ্যে’ কাব্য দিয়ে লেখালেখি জগতে শুরু হয়েছিলো তাঁর যাত্রা। আর থামেনি তাঁর লেখা, থামাননি তিনি; থামেনওনি। লিখে গেছেন অবিরাম। সাহিত্যের সর্বশাখায় বিচরণ থাকলেও সব ছাপিয়ে কবি পরিচয়টিকেই প্রধান মনে করতেন সাহিত্যাঙ্গনের সকল বোদ্ধারা। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ তাৎপর্যময় হয়ে উঠে তাঁর ‘নিষিদ্ধ লোবান’সহ নানা উপন্যাসে।
‘আমি জন্মেছি বাংলায়
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে?’
উপরোক্ত পাঁচটি পংক্তি। যেন পাঁচশ’ বছরের ইতিহাস এই বাংলার। এগুলো সৈয়দ শামসুল হক এর ‘ আমার পরিচয় ‘ কবিতার অংশবিশেষ।
তিনি আর লিখবেন না। আর ফিরবেন না। তাঁর সাধের ময়না তাঁকে বিদায় জানিয়ে চলে গেছে শিকল কেটে। আর তিনি! আমাদেরকে বিদায় জানিয়ে করলেন অগস্তযাত্রা। খোদার দরগায় তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি, আমিন।
* এইচ.এম. সিরাজ
সাংবাদিক ও শিক্ষানবীশ অ্যাডভোকেট
নির্বাহী সম্পাদক- দৈনিক প্রজাবন্ধু
মেইল: ংবৎধলযস@মসধরষ.পড়স, ভন:ঐ.গ.ংবৎধল

এখানে আপনার মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পড়া হয়েছে 13 বার

এই বিভাগের আরও খবর

    আর্কাইভ

    প্রজাবন্ধু ফেসবুক ফ্যান পেজ