রাখাল বাজায় পরীর বাঁশি মোঃ শামীম মিয়া   | ২৬ মে ২০১৫ | সময়ঃ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
001

গ্রাম আমদির পাড়া। এই গ্রামেই জন্ম এক গরিব পরিবারের ছেলে রাহুলের। রাহুল একজন রাখাল। অল্প বয়সেই রাখাল রাহুলের বাবা মারা যায়। তখন ক্লাস ফাইবে পড়ে রাহুল। বাবা মারা যাওয়ার পর রাহুলকেই গরু, মহিষ নিয়ে মাঠে যেতে হতো। গরু, মহিষের দুধ বাজারে বিক্রি করে, তাদের সংসার চলতো। রাখাল রাহুল প্রতিদিন প্রভাতে গরু, মহিষ নিয়ে যমুনা নদীর ওপারে,সাঁতরায়াই যেতো। খাওয়ার জন্য সঙ্গে নিতো, শুকনো কিছু খাবার । তার মাথায় ছিলো একটা লাল গামছা, আর ছিলো বাঁশির মত একটা লাঠি। রাহুল মাঠে গরু ছেড়ে দিয়ে, মাঠে থাকা বট গাছের নিচে বসে মুখেই বাঁশি বাঁজাতো। সুর সত্যি বাঁশির মত নাহলেও বেশ ভালোই লাগতো শুনতে। রাহুলের মুখে বাঁজানো বাঁশির সুর অনেক দুর যেতো। কখনো গরু, মহিষ যদি মাঠের বাহিরে যেতো, তাহলে রাহুল মুখে বাঁশি বাঁজাতো, অমনী গরু, মহিষ মাঠের মধ্যে আসতো।
সেদিন ঠিক দুপুর বেলায় রাহুল, বটগাছের নিচে বসে মুখে বাঁশি বাঁজাছে। এমন সময় বটগাছ থেকে দুটি পরী নেমে আসে মানুষের রুপে। তারা হলো নীল পরী ও লাল পরী। রাহুল ভয় পায়, তবুও বললো, আপনারা কে ? লাল পরী বললো, আমি লাল আর ও নীল আমার ছোট্ট বোন। এই বটগাছেই আমাদের বাড়ি। রাহুল পরীর কথা শুনে কাঁপছে, নীল পরী বললো, তুমি ভয়ে কাপছো কেন? ভয় পেওনা, আমরা তোমার ক্ষতি করতে আসিনী। এবার বলো তোমার নাম কী ? রাহুল বললো, আমার নাম রাহুল। আমি একজন রাখাল, এই মাঠে গরু, মহিষ চরাই। লাল পরী বললো, রাহুল আমরা তোমার বন্ধু হতে চাই। তুমি শুধু বাঁশি বাঁজাবে আমরা শুনবো। রাহুল বললো, আমার তো বাঁশি নেই, আমি কি ভাবে বাঁশি বাজাবো ? নীল পরী সঙ্গে, সঙ্গে যাদুর মাধ্যমে বা চোখের পলকে একটা লাল নীল রং এর বাঁশি দিলো। এবং বললো, রাহুল তুমি এই বাঁশিটিকে তুমি দুইটা কাজে ব্যবহার করতে পারবে। এক লাঠি হিসাবে, দুই বাঁশি হিসাবে। নীল পরী বললো, রাহুল বাঁশি বাজাও। রাহুল কোন কথা না বাড়িয়ে বাঁশি বাঁজাতে শুরু করলো। রাহুল এতো সুন্দর ভাবে সুন্দর সুরে বাঁশি বাঁজাছে। সুরের টানে নদীর ওপারে থাকা মানুষ গুলো ছুটে আসে নদীর এপারে রাহুলের কাছে। গ্রাম বাশি একে ওপরকে বলে এতো রাখাল রাহুল। এতো সুন্দর বাঁশি রাহুল কোথায় পেলো ? গ্রামবাসি রাহুলকে ঘিরে নিয়েছে,রাহুল বুঝতেই পারেনা। অনেকক্ষন বাঁশি বাঁজানোর পর বুঝতে পারে, গ্রামবাসি তাকে ঘিরে নিয়েছে। রাহুল চোখ দুটো খুলে বলে, নীল, লাল পরী বন্ধু তোমরা কোথায় ? গ্রামবাসি বললো, রাহুল তোমার বাঁশির সুর শুনে, আমরা, নদীর ওপার থেকে ছুটে এসেছি। তাছাড়া এতো সুন্দর বাঁশি কোথায় পেয়েছো তুমি ? রাহুল সব খুলে বললো। তারপর বললো তারা দুজন তো এখানেই ছিলো ? গ্রামের ময়মুরুব্বিরা বললো, আমরা আসার কারণেই হয়তো পরী দুইটা চলে গেছে। তবে বাঁশি বাঁজানো, তারা, ছায়া হয়ে শুনবে। তুমি বাঁশি বাজিয়ে যাও, ওরাও শুনবে আমরাও শুনি। সন্ধ্যা পযন্ত বাঁশি বাঁজায় রাখাল রাহুল। তারপর গরু, মহিষ নিয়ে বাড়ি যায় রাহুল। তবে লাল, নীল পরীকে আর দেখা পায়না। প্রতিদিন ঠিক সময়ই গরু, মহিষ নিয়ে রাহুল মাঠে যায়, বাঁশি বাজায় । পরী দুটিকে রাহুল প্রতিদিন খোজে, পরী দুটিকে খুজে পায়না। হয় তো বা ছায়া হয়ে রাহুলের বাঁশির সুর শোনে। গ্রাম বাসিও আর আগের মত আসেনা রাহুলের কাছে তেমন একটা। তবে গ্রামবাসির মুখে শোনা যায়।
এমনটি, যেমন ঃ
রাখাল রাহুল বাঁজায় পরীর বাঁশি,
গ্রাম পেড়িয়ে চলে যায় বহুদুর
তখন বলে গ্রামবাসি,
ও যেন রাখল নয়, কোন বাহাদুর।

এখানে আপনার মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পড়া হয়েছে 1605 বার

এই বিভাগের আরও খবর

    আর্কাইভ

    প্রজাবন্ধু ফেসবুক ফ্যান পেজ