-শেখ আশরাফুল আলম লিজিং কোম্পানীগুলোতে আপনার আমানত সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক   | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ | সময়ঃ ৪:১১ অপরাহ্ণ

এ দেশের জনগণের মধ্যে সঞ্চয়ের একটা প্রবণতা ইতিমধ্যে বেশ ভালভাবে গড়ে উঠেছে, অর্থাৎ আমরা বেশীরভাগ লোকই আপ্রান চেষ্টা করি আমাদের আয়ের একটা অংশ এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করি যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোন বিশেষ প্রয়োজনের তাগিদে সেটা যাতে ভালভাবে কাজে লাগাতে পারি। আর এ লক্ষে আমরা আমাদের সঞ্চয় গুলোর সঠিক নিরাপত্তার জন্য সবসময়ই একটা নিরাপদ স্থান খোজার চেষ্টা করি, আর এ ক্ষেত্রে লিজিং কোম্পানীগুলোতে আপনার সঞ্চয় সবচেয়ে নিরাপদ, নির্ঝঞ্জাট, ঝামেলা মুক্ত ও অধিক লাভজনক বলে মনে করি। আমার এ কথার যুক্তিসহ আমার বক্তব্যগুলো আমি একে একে ধারাবাহিকভাবে নি¤েœ আলোচনা/উপস্থাপনা করলাম।

১/ লিজিং কোম্পানীগুলোও বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স প্রাপ্তঃ অন্যান্য বাণিজ্যিক(সরকারী/বেসরকারী) ব্যাংকগুলোর ন্যায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লিজিং কোম্পানীগুলোকেও তার এই ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হতে লাইসেন্স নিতে হয় অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কোন লিজিং কোম্পানী এ দেশে ব্যবসা করতে পারে না। এছাড়া সকল লিজিং কোম্পানী কর্তৃক নিয়োগকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এর নিয়োগপত্র বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়।

২/ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লিজিং কোম্পানীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করাঃ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত লিজিং কোম্পানীগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করে থাকেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ এই যে, অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মত সকল লিজিং কোম্পানীগুলোকেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি বিধান মোতাবেক তাদের সাথে ক্যাশ এন্ড লিকুইডিটি রিসার্ভ সংরক্ষণ করতে হয়।

৩/ সরাসরি ক্যাশ লেনদেন করতে হয় নাঃ বাংলাদেশ ব্যাংক হতে প্রাপ্ত লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী লিজিং কোম্পানীগুলো সরাসরি কোন ক্যাশ লেনদেন করতে পারে না। সঙ্গত কারনে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় চেক, পেমেন্ট অর্ডার, ডিডি এ জাতীয় ইনিছট্রুমেন্ট এর মাধ্যমে নিতে পারবেন। সঙ্গত কারনেই দেশের বর্তমান আর্থ সামাজিক অবস্থা ও নিরাপত্তার খাতিরে সরাসরি টাকা পয়সা বহন করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ যা সহজেই অনমনীয়।

৪/ লিজিং কোম্পানীতে বিনিয়োগে লাভের পরিমান বেশীঃ বাংলাদেশে যত সরকারী ব্যাংক ও বেসরকারী ব্যাংক রয়েছে তারমধ্যে লিজিং কোম্পানীতে আপনার সঞ্চয় বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশী মুনাফা পাবেন যা ১২% থেকে সর্বোচ্চ ১৫% হতে পারে। এছাড়াও আমরা জানি, সদাশয় সরকারের যত ধরনের সঞ্চয় প্রকল্প রয়েছে সেগুলোর তুলনায় লিজিং কোম্পানীগুলোতে বিনিয়োগে মুনাফার হার বা লাভের পরিমান অনেক বেশী।

৫/স্থায়ীত্ত্বঃ আপনার নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবেন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ -বেশ কয়েকটি ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে যদিও অধিকাংশ বন্ধ হওয়া ব্যাংকগুলো সরকার অধিগ্রহণের মাধ্যমে চালিয়ে নিচ্ছেন তথাপি ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে/ হচ্ছে। জানা মতে, স্বাধীনতার পরে এ দেশে এ পর্যন্ত ৩১টি লিজিং কোম্পানীর জন্ম হয়েছে, অথচ জানামতে আজ পর্যন্ত একটি লিজিং কোম্পানীকে এ জাতীয় কোন সমস্যায় পড়তে হয় নাই বরং লিজিং কোম্পানীগুলো বেশ ভালই ব্যবসা করে যাচ্ছে।

৬/ অত্যন্ত নিরাপদঃ লিজিং কোম্পানীগুলোতে আপনার সমস্ত সঞ্চয় রেখে খুবই নিরাপদ বোধ করতে পারবেন। কারণ সমস্ত লিজিং কোম্পানীর অধিকাংশ টাকাই সরকারী/বেসরকারী ব্যাংকগুলো হতে প্রাপ্ত যা হাজার হাজার কোটি টাকার সমান। যুক্ত হচ্ছে, দেশের সব নামী দামী সরকারী/বেসরকারী ব্যাংকগুলো যদি তাদের হাজার হাজার কোটি টাকা লিজিং কোম্পানীগুলোতে রেখে/বিনিয়োগ করে নিরাপদ বোধ করে তবে আপনি কেন আপনার অতিমূল্যবান সঞ্চয়গুলো এ সকল লিজিং কোম্পানীতে রেখে/বিনিয়োগ করে স্বাচ্ছন্দ্য/নিরাপদ বোধ করবেন না?

৭/ অতি দ্রুত সেবা প্রদানঃ যেহেতু লিজিং কোম্পানীগুলোতে গ্রাহক সংখ্যা অন্যান্য সরকারী/বেসরকারী ব্যাংকগুলির চেয়ে অনেক গুন কম, সেহেতু এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহককে অতি দ্রুততার সাথে গ্রাহক সেবা প্রদান করা সম্ভব।

৮/ জটিলতা কমঃ অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ে লিজিং কোম্পানীতে লেনদেনের বিষয়ে জটিলতা অনেক কম।

৯/ ভিত্তিমূল দৃঢ়ঃ বাংলাদেশের লিজিং কোম্পানীগুলোর ভিত্তিমূল অত্যন্ত ভাল যা এদেশের জনগণের কাছে সহজেই গ্রহণযোগ্য।

১০/ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ভালঃ এ জাতীয় কোম্পানীগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত ছোট আকারের হওয়ার কারণে এগুলো সঠিক, সুচারু এবং সুন্দরভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত সহজ।

১১/ পরিচালনা ব্যায়ও তুলনামূলকভাবে কমঃ লিজিং কোম্পানীগুলোর জনবল অত্যন্ত কম বিধায় এর পরিচালনা ব্যয়ও অত্যন্ত কম।

১২/ লোকবল ব্যয় সীমিতঃ যেহেতু লিজিং কোম্পানী সীমিত আকারে বিশেষ বিশেষ কাজে নিয়োজিত সে কারণে এ কাজে তেমন বেশী লোকবলের প্রয়োজন হয় না বিধায় এ বিষয়ে ব্যয়ের পরিমাণও কম।

১৩/ পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাঃ লিজিং কোম্পানীগুলোর পরিচালনা পর্ষদে সাধারণত কম সংখ্যক সদস্য হওয়ার কারণে পরিচালনা ব্যয়ও কম এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং বাস্তবায়ন করতে অনেক কম সময় লাগে।

১৪/ তালিকাভুক্ত কোম্পানীঃ এদেশের অধিকাংশ লিজিং কোম্পানীগুলো ঢাকা এবং চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সদস্য এবং শেয়ার বাজারে অধিকাংশ কোম্পানীর শেয়ার অত্যন্ত চড়া দামে ক্রয়/বিক্রয় হয়ে থাকে বিধায় তালিকাভুক্ত কোম্পানীগুলোর সুনাম বাজারে অত্যন্ত বেশী যার উপর এদেশের জনগন পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন।

১৫/ শ্রেণীকৃত ঋণঃ ব্যাংকগুলোর তুলনায় লিজিং কোম্পানীগুলোর শ্রেণীকৃত ঋণের হার বা পরিমান সাধারণ অনেক কম হয়ে থাকে বিধায় এই কোম্পানীগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো।

১৬/ ঋণ মূল্যায়নঃ বাংলাদেশে ক্রেডিট রেটিং এর জন্য বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা ব্যাংক, লিজিংসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সকল ঋণ মুল্যায়ন করে থাকে। তাদের কর্তৃক প্রদত্ত রিপোর্ট অনুযায়ী লিজিং কোম্পানীগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত ভাল। কষ্ট অব ফান্ড

১৭/ অতি সামান্য মুনাফাঃ ব্যাংকগুলোর তুলনায় লিজিং কোম্পানীগুলো কষ্ট অব ফান্ড অত্যন্ত বেশী হওয়ার কারণে লিজিং কোম্পানীগুলোর মুনাফার পরিমান অতি সামান্য হয়ে থাকে।

১৮/ বড় সমস্যাঃ বাংলাদেশের জনগণের কাছে ব্যাংক(সরকারী/বেসরকারী), বীমা ও এধরনের কোম্পানী সম্বন্ধে ব্যাপক একটা ধারনা বহুদিন থেকে আছে। কিন্তু লিজিং কোম্পানীগুলো সম্বন্ধে তেমন কোন ধারনা না থাকার কারণে এখানে গ্রাহকের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। তাই লিজিং কোম্পানীগুলো সম্পর্কে ব্যপক প্রচার-প্রচারণা হলে মানুষ সহজেই তাদের সঠিক কর্মকান্ড সর্ম্পকে বিশদভাবে জানতে পারবে। ফলে লিজিং কোম্পানীগুলো আরো অনেক বেশী ব্যবসায় প্রসার ঘটাতে পারবে।

১৯/ ঝামেলা মুক্ত সহজ শর্তে লীজ/ঋণ গ্রহনঃ লিজিং কোম্পানীগুলো হতে নি¤œলিখিতভাবে সহজ শর্তে এবং ঝামেলা মুক্ত লীজ/ঋণ গ্রহণ সম্ভবঃ

ক. স্বল্প সময়ে মর্টগেজ বিহীন ঋণ পাওয়ার সুবিধা।

খ. এছাড়া মর্টগেজ সহ ঋণগুলোও অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিতরণ হয়ে থাকে।

গ. মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধায় ১০% সুদে ঋণ দেয়া হয়ে থাকে।

ঘ.লিজিং কোম্পানী হতে ঋণ পাওয়া সহজলভ্য বটে।

ঙ.ঋণ পরিশোধ পদ্ধতি খুবি সহজলভ্য বিশেষকরে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ।

চ. এছড়াও রয়েছে আপনার সুবিধা ও পছন্দমত পদ্ধতিতে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ব্যবস্থা।

উপরোক্ত আলোচনা হতে এটা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের সকল লিজিং কোম্পানীগুলো হচ্ছে আপনার সঞ্চয়ের সবচেয়ে নিরাপদ, গ্রহণযোগ্য ও লাভজনক বিনিয়োগ কেন্দ্র। (লেখকঃ সাবেক ব্যাংকার, বর্তমানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা – ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন এন্ড ফাইনান্সিয়াল কনসোর্টিয়াম)

এখানে আপনার মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

পড়া হয়েছে 1796 বার

এই বিভাগের আরও খবর

    আর্কাইভ

    প্রজাবন্ধু ফেসবুক ফ্যান পেজ